Search This Blog

Saturday, February 11, 2017

ভালোবাসা
তপন গোস্বামী


প্রিয় গোলাপগুচ্ছ
স্নিগ্ধ গোধূলীর আলো
এই অমলিন সন্ধ্যা
শান্ত বয়ে চলা নদী
কুয়াশা মোড়া উপত্যকা
অজস্র চুম্বন
প্রিয়তমা সব সব তোমারই জন্য

বদলে নিলাম
শেকড়হীন জীবন
মূল্যহীন প্রত্রিশ্রুতি
মায়াহীন ভালোবাসা
দীর্ঘ নিদাঘ দুপুর
অব্যক্ত নীল বেদনা

প্রিয়তমা সব সব তোমারই জন্য
ভালোবাসা
তপন গোস্বামী


তবে কী শুধুই আশা
মিথ্যা সব প্রিয় প্রত্যাশা,
ছলনার আবেগ, আর
হৃদয়হীন ভালোবাসা।
এ প্রান্তে বিভ্রম আলো
ওপাশে বর্ণহীন মায়াময় কালো।
বর্ণান্ধ দেখে না কিছুই
আলো কিংবা কালো
নেই কোনো তফাৎই
পল্লবহীন চোখে
তাকিয়ে বলে – বাবু কানা।


Wednesday, July 22, 2015

আমরা চাই না ফুল, চাই হৃদয়ের অহংকার
আমরা চাই না ফুল, চাই বাংলা মায়ের আঁচল
আমরা চাই না ফুল, চাই শিশুর ঠোঁটের প্রথম ওঁকার
যে ছেলেটা চায়ের দোকানের এঁটো কাপ ধুচ্ছে রাস্তার ধারে, তাকে ডাকুন
তার কানে কানে বলুন সুজলাং সুফলাং মলয়জ শীতলাং
হ্যাঁ, বেশ সুন্দর করে বলুন,যে মেয়েটা চাকরির নাম করে
বনগাঁ কিংবা চাকদা থেকে রোজ সকালের ট্রেনে সেজেগুজে
শহরে আসছে, শরীর বেচে চাল, ডাল, নুন কিনতে, তাকে ডাকুন,
তার কানে কানে সুরেলা কন্ঠে বলুন, সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে
যে ছেলেটি লটারির টিকিট নিয়ে দরজায় দরজায় ঘুরছে আর বলছে
বিশ্বাস করুন, আমি ভদ্রলোক, আজ ১০ বছর হল আমার
কারখানা বন্ধ, লক-আউট, তাকে ডাকুন, তার কানে কানে
বলুন, বল বল বল সবে শতবীণা বেণুরবে ভারত আবার
জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে ।
রাতের আকাশ-কাঁপিয়ে অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামলে, যে মা
আজও লন্ঠন হাতে টালির ঘরের দরজায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন
তাঁর খোকন ফিরে আসবে বলে । যে খোকনকে এমনই
এক বর্ষায় উন্মত্ত রাতে কালো গাড়ির পুলিশ ডেকে নিয়ে গিয়েছিল
আর বরানগরের রাস্তায় ভোরের ঘুম-ভাঙা
কুকুর প্রথম দেখেছিল যার গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত লাশ,
সেই মাকে ডাকুন, তাঁর কানে কানে বলুন,
হাম বুলবুলি হ্যায় ইসকি ইয়ে গুলিস্তা হামারা, সারে যাঁহা......হামারা ।
সবাইকে সব বলা শেষ হলে, সুনসান শীতের রাতে
পাঁচমাথার মোড়ে ঘোড়ায় চড়ে বসা সেই মহাবিপ্লবীর
পায়ের সামনে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান
ফাঁকা রাস্তায় রাতের বাতাসে কান পাতুন
শুনতে পাবেন সেই বিপ্লবী পুরুষের বজ্রকণ্ঠ
আমি তোমাদের কাছে রক্ত চেয়েছিলাম
তোমাদের স্বাধীনতা এনে দেব বলে, আমি পারিনি
কিন্তু আমি আমার সমস্ত জীবন উৎসর্গ করেছি

আর তোমরা ? --- তোমরা ??
শুভ দাশগুপ্ত
একদিন, কোনএকদিন ভারতবর্ষ জেগে উঠবে
জ্যোৎস্নার গভীরে;
দিগন্তে ছড়ানো গ্রাম, মাইল মাইল টানা তরাই এর
বিশাল অরণ্য, পাহাড়তলির শুঁড়িপথ থেকে,
গেরিলারা উঠে আসবে রাইফেলের ট্রিগারে আঙুল রেখে
সাইরেনের শব্দে ছুটে আসা মজুরেরা কারখানার চিমনির মাথায়
দুলিয়ে দেবে লালতারা;…
যাদের বসন্ত ফুরিয়েছে খাদ্যের সারিতে প্রতীক্ষায়,
আঙুরের রসে ভেজানো অফুরন্ত রুটি তাদের জন্য;
বিশাল স্বদেশের বুকে হেঁটে যাবে লালসেনা, জেলখানার
দরজা ভেঙে বেরিয়ে আসবে সাথীরা, আর

মৃতদের সমাধির উপর ঝরে পড়বে অবিরাম ফুল;

Wednesday, July 23, 2014



আর্ন টু বার্ন মানি
বি হ্যাপি ডোন্ট ওরি
সমাজ! কি বস্তু কী জানি
শুধু ভাবের ঘরে চুরি
.
দিন আনি দিন খাই
রগড় দেখে মেকি সমাজদরদী
চেএই দুর্দিনে তোমাকে- চাই
মেহনতি মানুষের স্বার্থে জরুরী।

Monday, June 16, 2014



লোকটা বিপদে পড়েছে দেখলে
কেউ কেউ খুশি হয়
কেউ কেউ মনখারাপ করে
তবে কিনা গুনে দেখতে গেলে
লোকটাকে ভালবাসে অনেকজন
শত্রুরা করে কয়েকজন মাত্র
আসলে লোকটার বেঁচে থাকতে রোজগার, টাকা-পয়সা দরকার
তবে সেটাই সব নয়
লোকটা বিশ্বাস করে ভালোবাসায়, সম্মানে আর
মানুষকে সাহায্য করায়
হাসতে আর হাসানোতে
তার বন্ধুকে বলে ‘এসো’
শত্রুকেও বলে ‘এসো’
গত পঞ্চাশ বছর ধরে তো এভাবেই চলছে।


তিনিই জানেন তার
সন্তানের প্রয়োজনগুলি
কোষের ভেতরে, রক্তে,ভ্রুণে সঙ্গমে
তিনিই রাখেন যত ঔষধ
শুদ্ধ নিরাময়
ঘাসে গাছে জলাধারে
রোদের ভিতর