Search This Blog

Wednesday, March 5, 2014

Ya দেবী সর্বভূতেষু


বাঙালি মেতে গেছে। কাউণ্ট ডাউন শুরু। জিরো আওয়ার আর মাত্র কদিন। মা আসছেন দোলায় চেপে। চারদিকে হৈহৈ-রৈরৈ। সবাই সবাইকে শারদ শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। বড় পুজোর কর্তারা ভেজা পিচে ওপেনিং ব্যাটসম্যানের মতো ঠকঠক করে কাঁপছেন। ডেকরেটার্স-এর মালিকদের পায়ের ঘাম মাথায় আর মাথার রক্ত পায়ে। একটুও যেন খামতি না থাকে। শারদীয়া সংখ্যার প্রকাশের পালা প্রায় শেষ। প্রলেতারিয়েত লিটল ম্যাগ গুলো প্রসব-যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। পাড়ায় পাড়ায় গলায় গামছা দিয়ে এসে সেই গামছা-ই পাবলিকের গলায় পরিয়ে চাঁদা আদায় চলছে পুরোদমে। বাঙ্গালী বীরের জাতি। পুজোর কোনো কমতি টরালেট করবে না।
-      দাদা, ওটা ‘টরালেট’ না টলারেট হবে।
-      ওই হল, এই ঝামেলায় সব গুলিয়ে গেছে।
বড়বাবু, মেজবাবুরা হনুলুলু, কামসচাটকা, উত্তর মেরু আর ছোটোবাবুরা গোর্গাবুরু, শালডিহা, অমরকানন বেড়াতে যাওয়ার পাঁয়তারা কষছেন। ব্যাপক সাড়া পড়ে গেছে সব মহল্লায়। পুজোর থিম নাকি সুন্দরবন, কোনোটার গির অরণ্য। অরন্য-ই ভবিষ্যত। বাঘ-সিংহরা ঘুরে বেড়াবে প্যান্ডলে প্যান্ডলে। যদি দু-একটা হরিণি মারা পড়ে নো চিন্তা – ডু ফুর্তি। হাতে হাতে নগদ পেয়ে যাবে হরিন বাবা-মা। সিংহদের একটু বেশি মাংস খেতে দেওয়া হবে। ইসস, কয়েকটা কুমীর যদি . . . ।  ওপর থেকে নির্দেশ এসে গেছে মদ চাই পুজোয়, কোনো বাধা যেন থাকে। গ্যাঁজা – ট্যাঁজায় চলবেনি বাপু চারদিন।
এই মওকায় ব্যাবসায়ীকূল বাঙ্গালীর পকেট থেকে মোটে ২৫ হাজার কোটি টাকা টুক করে  তুলে নিয়ে নিজেদের পকেটে চালান করে দিল।  বাঙালিকে কাঙালি বানিয়ে দিয়ে ধেই ধেই নাচ। বাঙালি তুই কাঙালি। যা বেটারা ‘রূপং দেহি, যশো দেহি করগে, আমরা তো ধনং পাহি হয়ে গেছি।
বিসর্জনে এবার নতুন নাচ ‘লুঙ্গি ড্যান্স’। নেচে নেচে পাগলুরা একটু ঝিমিয়ে পড়বে কদিন। জয় মা দুগ্গা। আবার আসিস মা। তুই না এলে আমাদের কী হবে মা? কে দেখবে তোর এই অধম সন্তানদের!

No comments:

Post a Comment